Academy

জামান সাহেব কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ মতো তার বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ে উঁচু ৪ শতক জমিতে মেনজিয়াম বীজ রোপণ করেন। এ জন্য তিনি ১৫ সেমি × ১০ সেমি আকারের পলিব্যাগ ব্যবহার করেন। এতে করে জামান সাহেব ব্যাপক সফলতা লাভ করেন।

Created: 1 year ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago
Ans :

যে স্থানে গাছের চারা উৎপন্ন করে রোপণের পূর্ব পর্যন্ত পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা হয় তাকে নার্সারি বলে।

1 year ago

বনায়ন

বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বনভূমিতে গাছলাগানো, পরিচর্যা ও সংরক্ষণকে বলা হয় বনায়ন। বনায়নের ফলে বনভূমি হতে সর্বাধিক বনজ দ্রব্য উৎপাদিত হয়। বসতবাড়ি, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও বাঁধের ধার, পাহাড়ি অঞ্চল ও উপকূলীয় অঞ্চলে বৈজ্ঞানিকভাবে পরিকল্পিত উপায়ে সৃজিত বনায়নকে বলা হয় সামাজিক বনায়ন ।

বাস উপযোগী পরিবেশ তৈরি ও তা সংরক্ষণে বনের ভূমিকা অপরিসীম । কোনো দেশের বা অঞ্চলের বিস্তৃর্ণ এলাকাজুড়ে বড় বড় বৃক্ষরাজি ও লতা-গুল্মের সমন্বয়ে গড়ে উঠা বনকেই বনভূমি বলা হয়। এসব বনভূমি কখনো প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্টি হয় ও গড়ে উঠে । আবার কখনো মানুষ তার প্রয়োজনে বৃক্ষ রোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে সৃষ্টি করে থাকে। প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় একটি দেশের মোট আয়তনের তুলনায় বনভূমির পরিমাণ শতকরা ২৫ ভাগ হওয়া অপরিহার্য। কিন্তু আমাদের দেশে বনভূমির পরিমাণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম । সরকারি হিসাব মতে বর্তমানে আমাদের দেশের বনভূমির পরিমাণ মাত্র ১৭ ভাগ । ইউনেস্কোর মতে বর্তমানে আমাদের দেশের বনভূমির পরিমাণ শুধুমাত্র ১০ ভাগ। এ অধ্যায়ে আমরা আমাদের দেশের বনাঞ্চলের বিস্তৃতি, ধরণ এবং বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে জানব। এছাড়াও বন সংরক্ষণ বিধি, বন নার্সারি, বন নার্সারির বীজ, বৃক্ষ কর্তন ও কাঠ সংগ্রহ এবং উপকূলীয় বনায়ন সম্পর্কে বিস্তারিত জানব ।

এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -

  • বাংলাদেশের বনাঞ্চলের ধরন ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বাংলাদেশের বনাঞ্চলের নাম উল্লেখ করতে পারব;
  • বিভিন্ন বনের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • বন সংরক্ষণ বিধি ব্যাখ্যা করতে পারব; বন সংরক্ষণ বিধির প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বন নার্সারি ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বন নার্সারির বীজ সম্পর্কে বর্ণনা করতে পারব;
  • বন নার্সারি তৈরির কৌশল ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • বৃক্ষ কর্তনের নিয়মাবলি ব্যাখ্যা করতে পারব; তক্তা বা কাঠ সংরক্ষণের পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • গোল কাঠ বা তক্তা পরিমাপ পদ্ধতি বর্ণনা করতে পারব;
  • বৃক্ষ কর্তন ও কাঠ সংগ্রহের উপযোগিতা ব্যাখ্যা করতে পারব; উপকূলীয় বনায়নের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
  • উপকূলীয় বনায়নের জন্য ব্যবহৃত গাছের বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করতে পারব;
  • উপকূলীয় বনায়নের উপযোগিতা বিশ্লেষণ করতে পারব ।
Content added By

Related Question

View More

সুস্থসবল ও সুন্দর চারা পাওয়ার আদর্শ স্থান হলো নার্সারি।
বিরল প্রজাতির চারা উৎপাদনে ও বিলুপ্তি রোধে নার্সারি একান্ত অপরিহার্য। এমন অনেক বীজ রয়েছে যেগুলো গাছ থেকে ঝরে পড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রোপণ করতে হয়। তা না হলে অঙ্কুরোদগমের হার কমতে থাকে। যেমন-গর্জন, শাল, রাবার, তেলসুর প্রভৃতি। এসকল গাছের সুস্থ-সবল চারা নার্সারি থেকে আমরা সহজে পেতে পারি।

উদ্দীপকে উল্লিখিত জামান সাহেবের চারা উৎপাদনের জায়গার পরিমাণ ৪ শতক এবং ব্যবহৃত পলিব্যাগের আকার ১৫ সেমি × ১০ সেমি।

আমরা জানি,

১ একর = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার

আবার, ১০০ শতক = ১ একর

সুতরাং, ১০০ শতক = ৪০৪৬.২৪ বর্গমিটার

∴ ১ " =.

∴ ১ "  =. × 

= ১৬১.৮৫ বর্গমিটার

= ১৬২ বর্গমিটার (প্রায়)

১৫ সেমি × ১০ সেমি আকারের পলিব্যাগের জন্য-

১ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = ৬৫টি

∴ ১৬২ বর্গমিটারে প্রয়োজনীয় চারার সংখ্যা = (৬৫×১৬২) টি

= ১০,৫৩০টি

অতএব, জামান সাহেবের নার্সারির চারার সংখ্যা ১০,৫৩০টি।

জামান সাহেব তার বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ে উঁচু ৪ শতক জমিতে মেনজিয়াম বীজ রোপণ করেন।
কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শমতো তিনি নার্সারি তৈরির সকল কৌশল অবলম্বন, সুষ্ঠু পরিকল্পনা প্রণয়ন ও এর বাস্তবায়ন করতে পেরেছিলেন।
নার্সারি সাধারণত আলো-বাতাসযুক্ত উঁচু স্থানে করতে হয়। স্থান নির্বাচনের ক্ষেত্রে তিনি বাড়ির দক্ষিণ দিকে পুকুর পাড়ের উঁচু জমি নির্বাচন করেছিলেন যাতে বর্ষার পানি না উঠে বা জলাবদ্ধতা না হয়। চারা উৎপাদনের জন্য পলিব্যাগ ব্যবহার করেন। পলিব্যাগে চারা উৎপাদন সহজ, ব্যয় কম, রোগবালাই কম হয়, স্থানান্তর ও পরিবহন সহজ হয়। এছাড়াও তিনি সঠিকভাবে বেড তৈরি, মাটি প্রস্তুত, সার প্রয়োগ, সেচ প্রদান, আগাছা পরিষ্কার, পোকামাকড় ও রোগ দমন করেন।
অর্থাৎ, যথাযথ পরিকল্পনা, উপযুক্ত পরামর্শ গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন জামান সাহেবের সফলতার কারণ।

4 কাঠ সিজনিং কী? (জ্ঞানমূলক)

Created: 1 year ago | Updated: 7 months ago
Updated: 7 months ago

কাঠের স্থায়ীত্ব দীর্ঘায়িত করার জন্য নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে কাঠ থেকে পানি বের করে নেওয়ার পদ্ধতিকে বলে কাঠ সিজনিং।

বৃক্ষের চারা রোপণ থেকে শুরু করে বৃক্ষের সর্বাধিক বৃদ্ধি ও পরিপক্বতা লাভ করে ব্যবহার উপযোগী হওয়ার সময়কালকে আবর্তনকাল বলে।
গামার ও শিশু মাঝারি আবর্তনকালের উদ্ভিদ। কারণ, এদের কাঠ আংশিক শক্ত। খুঁটি ও কাঠ উৎপাদনের জন্য এদের ২০-৩০ বছর আবর্তনকালে কাটা হয়।

সুফিয়া বেগমের দুটি গাছের লগের দৈর্ঘ্য, চিকন মাথার বেড়, মাঝের অংশের বেড় ও মোটা মাথার বেড় যথাক্রমে ৮ মিটার, ২ মিটার, ২.৫ মিটার ও ৩ মিটার। একটি গাছের ভলিউম বের করতে হবে।
তাহলে একটি গাছের পরিমাপসমূহ উল্লিখিত পরিমাপের অর্ধেক হবে। লগের ভলিউম নির্ণয়ে নিউটনের সূত্র থেকে আমরা জানি,

সুতরাং, সুফিয়া বেগমের একটি গাছের ভলিউম হচ্ছে ০.৫০ ঘনমিটার।

Promotion
NEW SATT AI এখন আপনাকে সাহায্য করতে পারে।

Are you sure to start over?

Loading...